28.1 C
New York

দুই তরুণীর ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে পাশে FPCIW ও অনুরাগ হালদার; পদক্ষেপ নিল পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ

Published:

পশ্চিমবঙ্গ | ২৫ জুলাই, ২০২৬: সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যুক্ত দুই তরুণীর ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়াল Forum for Performing Artists, Cultural Workers and Influencers of West Bengal (FPCIW) এবং অনুরাগ হালদার। দুই তরুণীর অভিযোগ যাতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছয় এবং তাঁদের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হয়, সেই লক্ষ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

দুই তরুণী প্রকাশ্যে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এক রেলকর্মীর আচরণ সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ জানান। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, কীভাবে তাঁরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন এবং নিজেদের অভিযোগের যথাযথ বিচার পাওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে গিয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে FPCIW ও অনুরাগ Simply দুই তরুণীর পাশে দাঁড়ান এবং তাঁদের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে উদ্যোগী হন। দুই তরুণী শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় FPCIW-এর পক্ষ থেকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের কণ্ঠস্বর যাতে উপেক্ষিত না হয়, তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে অনুরাগ হালদার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান এবং অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। বিষয়টির যথাযথ নিষ্পত্তি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টির অনুসরণ করেন।

এরপর পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট রেলকর্মীকে সাসপেন্ড করে। পাশাপাশি GRP-র পক্ষ থেকেও অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

২৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখের পূর্ব রেলের নির্দেশিকায় সংশ্লিষ্ট রেলকর্মীর সাসপেনশনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি দুই তরুণীর ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উঠে এসেছে।

পরবর্তী বক্তব্যে দুই তরুণী ঘটনার অগ্রগতি এবং তাঁদের এই লড়াইয়ে পাওয়া সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন।

এই প্রসঙ্গে অনুরাগ হালদার বলেন:

“যখনই কোনও মানুষ সাহায্য বা ন্যায়বিচারের আশায় আমাদের কাছে আসেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ানোকে আমরা আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি। আর যখন তাঁরা আমাদেরই শিল্পী সমাজ বা সাংস্কৃতিক জগতের মানুষ হন, তখন FPCIW-এর কাছে সেই দায়িত্ব আরও বেশি। এক্ষেত্রে তাঁরা দু’জনই আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যুক্ত এবং একই সঙ্গে নারী—যাঁরা সাহস করে তাঁদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা সামনে এনেছেন। তাঁদের কণ্ঠস্বর কোনওভাবেই উপেক্ষিত হতে দেওয়া যায় না।

বিষয়টি জানার পর আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়াই। আমি ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাই এবং বিষয়টির ধারাবাহিক অনুসরণ করি। পরবর্তীতে রেল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং GRP-ও মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

আমাদের কাছে শিল্প ও সংস্কৃতি জগতের প্রত্যেকটি মানুষ একটি পরিবারের অংশ। সেই পরিবারের কোনও সদস্য, বিশেষ করে কোনও নারী, বিপদে পড়ে আমাদের কাছে সাহায্য চাইলে তাঁর পাশে দাঁড়ানো শুধু আমাদের সিদ্ধান্ত নয়—এটা আমাদের দায়িত্ব। আগামী দিনেও শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করা মানুষের পাশে FPCIW একইভাবে দাঁড়াবে।”

FPCIW ও অনুরাগ হালদারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধুমাত্র আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী কিংবা যে কোনও সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে কোনও নারী—সম্মান ও ন্যায়বিচারের জন্য সাহায্য চাইলে সময়মতো উদ্যোগ, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং বিষয়টির ধারাবাহিক অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নিজেদের অভিযোগ প্রকাশ্যে তুলে ধরা থেকে শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষের বিভাগীয় পদক্ষেপ এবং GRP-র মামলা রুজু পর্যন্ত দুই তরুণীর এই লড়াই সমাজের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেয়:

“ন্যায়বিচারের দাবিতে কোনও শিল্পীর কণ্ঠস্বর যেন কখনও উপেক্ষিত না হয়।”

— সমাপ্ত —

সংবাদমাধ্যমের যোগাযোগের জন্য:
FPCIW ও অনুরাগ হালদার
Forum for Performing Artists, Cultural Workers and Influencers of West Bengal

Related articles

Recent articles